দেশের উচ্চ শিক্ষা বিস্তারকে সামনে রেখে বনপাড়া কলেজ ১৯৬৬ সালের ১লা জুলাই নাটোর জেলার বড়াইগ্রাম উপজেলার অন্তর্গত বনপাড়া এলাকায় স্থাপিত হয়। যা তৎকালীন সময়ে এই অঞ্চলের উচ্চশিক্ষা প্রসারে এক অনন্য ও ব্যতিক্রমী প্রতিষ্ঠান। কলেজ প্রতিষ্ঠার পর থেকে কলেজের শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ, শিক্ষকদের নিরবচ্ছিন্ন পাঠদান, শিক্ষার্থীদের অধ্যবসায়, কলেজ উন্নয়নে বিভিন্ন অধ্যক্ষ মহোদয়ের উদ্যোগ ও সহযোগিতা বনপাড়া কলেজকে স্থানীয় ও জাতীয়ভাবে গৌরব অর্জনে সাহায্য করেছে। দীর্ঘ ৪০ বছরের পথ পরিক্রমায় নাটোর অঞ্চলের উচ্চ শিক্ষা বিস্তারে নিরন্তর ভূমিকা রেখে চলেছে কলেজটি।
১৯৬৬ সালে মাত্র জন শিক্ষক ও জন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করা বনপাড়া কলেজের বর্তমান শিক্ষক সংখ্যা জন এবং শিক্ষার্থী সংখ্যা ৪০০ জন। বনপাড়া বাইপাস থেকে ১ কিলোমিটার দূরে বনফায়ারস সবুজ ক্যাম্পাসে শোভিত একর জমির উপর এক নৈসর্গিক পরিবেশে অবস্থিত কলেজ ক্যাম্পাসটিতে রয়েছে তিনটি বহুতল ভবন, একটি মসজিদ, একটি শপিং মার্ট লাইব্রেরি, ডিজিটাল কম্পিউটার ল্যাব, ফিজিক্স ল্যাব, কেমিস্ট্রি ল্যাব, বায়োলজি ল্যাব, মনোবিজ্ঞান ল্যাব, ভূগোল ল্যাব।
বর্তমান বনপাড়া কলেজে ৭টি বিভাগে মোট টি বিষয়ে পাঠদান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। বিজ্ঞান, মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগ ছাড়াও এখানে কারিগরি শিক্ষার বোর্ডের অধীনে বিজনেস ম্যানেজমেন্ট বিভাগে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠদান করা হয়।
কলেজটি ১৯৮৮-৮৯ শিক্ষাবর্ষে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠদানের অনুমতি পায় এবং ১৯৯৯ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক (পাস) কোর্সে পাঠদানের অনুমতি পায়। বর্তমানে কলেজটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে কয়েকটি বিভাগ কোর্সের অধীনে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের পাশাপাশি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে স্নাতক(পাস) কোর্সে বাংলা, ইংরেজি, ইতিহাস, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি, ইসলাম শিক্ষা, গার্হস্থ্য, দর্শন, সমাজকর্ম, সমাজবিজ্ঞান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, অর্থনীতি, হিসাববিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা, ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং, মার্কেটিং, পদার্থবিদ্যা, উদ্ভিদবিদ্যা, প্রাণিবিদ্যা, রসায়নবিদ্যা, মনোবিজ্ঞান, ভূগোল, পরিসংখ্যান এবং গণিত বিষয়ে এবং স্নাতক (সম্মান) পর্যায়ে বাংলা, ব্যবস্থাপনা, হিসাববিজ্ঞান, সমাজকর্ম ও প্রাণিবিদ্যা বিষয়ে পাঠদান করে থাকে।
বনপাড়া কলেজে ব্যবহারিক শিক্ষার মান উন্নত ছিল এবং বর্তমানেও তা অব্যাহত আছে। কলেজের বিভাগ অভ্যন্তরীণ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পরীক্ষায় অংশ গ্রহণের মাধ্যমে কলেজের উন্নত শিক্ষামানকে সাক্ষ্য বহন করে। নবাবিধায় শিক্ষাদান ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা আরও উন্নততর হয়েছে। মেধাবী ও আত্মবিশ্বাসী শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি গ্রহণ এবং কার্যকরী সার্বিক সহযোগিতা একজন শিক্ষার্থীকে যোগ্য, নীতিবান ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসাবে গড়ে তুলতে সচেষ্ট হয়েছে।
03/09/2026
02. College, 03. School & College