AI ইম্পারসোনেশন স্ক্যাম- ‘ডিপফেক’ (Deepfake) প্রযুক্তির অপব্যবহার
আপনার পরিচিত কণ্ঠ বা চেহারা কি আসলেই আসল? ⚠️
২০২৬ সালে এসে সাইবার অপরাধের ধরণ আগের তুলনায় আরো বহুগুনে বদলে গেছে। এখন শুধু পাসওয়ার্ড চুরি নয়, এখন আপনার পরিচিত মানুষের হুবহু কণ্ঠ বা চেহারা নকল করে (Deepfake) প্রতারণা করা হচ্ছে। একে বলা হচ্ছে ‘AI ইম্পারসোনেশন স্ক্যাম’। ডিপফেক এমন একটি প্রযুক্তি যেখানে AI ব্যবহার করে একজনের ভিডিওতে অন্য কারো চেহারা বসিয়ে দেওয়া হয় বা কারো ভয়েস স্যাম্পল দিয়ে হুবহু তার মতো কথা বলানো যায়। দেখলে বা শুনলে বোঝার উপায় থাকে না যে এটি নকল।
আপনারা কি জানেন কিভাবে প্রতারণা করা হচ্ছে?
অডিও কল স্ক্যাম: হঠাৎ আপনার কোনো স্বজন বা বন্ধুর কণ্ঠে ফোন আসবে যে তিনি বিপদে পড়েছেন এবং জরুরি টাকা লাগবে।
ভিডিও কল জালিয়াতি: হোয়াটসঅ্যাপ বা মেসেঞ্জারে ভিডিও কলে আপনার পরিচিত কাউকে দেখা যাবে, কিন্তু আসলে সেটি এআই জেনারেটেড ভিডিও।
এইসকল স্ক্যাম থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখার ৫টি উপায়:
১. তাৎক্ষণিক বিশ্বাস করবেন না: পরিচিত কেউ বিপদের কথা বলে টাকা চাইলে আগে অন্য কোনো মাধ্যমে (যেমন: সরাসরি কল বা মেসেজ) নিশ্চিত হোন।
২. অস্বাভাবিক কিছু লক্ষ্য করুন: ভিডিও কলে চোখের পলক পড়ার ধরণ, ঠোঁটের নড়াচড়া বা গলার স্বরে কোনো অসামঞ্জস্য আছে কি না খেয়াল করুন।
৩. সিক্রেট কোড বা প্রশ্ন: পরিবারের সদস্যদের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট ‘সিক্রেট কোড’ বা এমন কোনো প্রশ্ন ঠিক করে রাখুন যার উত্তর অন্য কেউ জানবে না।
৪. সোশ্যাল মিডিয়ায় সচেতনতা: নিজের পরিষ্কার কণ্ঠের অডিও বা হাই-ডেফিনিশন ভিডিও যত্রতত্র পাবলিকলি শেয়ার করা থেকে বিরত থাকুন, কারণ এগুলো থেকেই এআই ডাটা সংগ্রহ করে।
৫. টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন (2FA): আপনার সকল সোশ্যাল মিডিয়া ও ফিন্যান্সিয়াল অ্যাকাউন্টে টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন চালু রাখুন।
৬. নিজের ব্যবহৃত স্মার্ট ফোন, কম্পিউটার, ল্যাপটপ ইত্যাদি অপরিচিতদের ব্যবহার করতে দেওয়া থেকে বিরত থাকুন।
৭. যেখান সেখানে নিজের ব্যক্তিগত তথ্য/ছবি/ভিডিও আদান-প্রদান থেকে বিরত থাকুন।
প্রযুক্তি যেমন আমাদের জীবন সহজ করছে, তেমনি কিছু মানুষ একে অসৎ কাজে ব্যবহার করছে। সচেতনতাই হতে পারে আপনার সেরা সুরক্ষা।
পোস্টটি শেয়ার করে আপনার প্রিয়জনদের সচেতন করুন। 🛡️
নিয়মিত এমন সকল আপডেট পেতে জেবিডি আইটির সাথেই থাকুন।