বিশ্ব মা দিবস ২০২৬
মাতৃত্বের বন্ধন পৃথিবীর সবচেয়ে পবিত্র ও নিঃস্বার্থ সম্পর্ক। প্রতি বছর মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার আমরা ‘মা দিবস’ পালন করি। কিন্তু এই বিশেষ দিনটি পালন করার প্রথা কীভাবে শুরু হলো, তার পেছনে রয়েছে এক মহীয়সী নারীর ত্যাগ ও সংগ্রামের ইতিহাস।
মা দিবসের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে। তবে প্রাচীন গ্রিস ও রোমেও মাতৃত্বের আরাধনা করার প্রচলন ছিল। আধুনিক মা দিবসের প্রবক্তা হলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আনা জার্ভিস (Anna Jarvis)। আনা জার্ভিসের মা, অ্যান মারিয়া রিভস জার্ভিস ছিলেন একজন সমাজকর্মী, যিনি গৃহযুদ্ধের সময় মায়েদের কল্যাণে কাজ করতেন। ১৯০৫ সালে মায়ের মৃত্যুর পর আনা জার্ভিস প্রতিজ্ঞা করেন যে, তিনি মায়েদের সম্মানে একটি জাতীয় দিবস প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন করবেন।
প্রথম উদযাপন ও স্বীকৃতি
১৯০৮ সালের ১০ মে আনা জার্ভিস পশ্চিম ভার্জিনিয়ার গ্রাফটনের একটি গির্জায় তার মায়ের স্মরণে একটি বিশেষ সভা আয়োজন করেন। এটিই ছিল আধুনিক ইতিহাসের প্রথম আনুষ্ঠানিক মা দিবস। তিনি মায়েদের প্রিয় সাদা কার্নেশন ফুল দিয়ে দিনটি উদযাপন করেছিলেন। এরপর আনা জার্ভিস চিঠিপত্র ও সভা-সেমিনারের মাধ্যমে সরকারের কাছে দিবসটিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতির দাবি জানান। অবশেষে ১৯১৪ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন একটি আইন পাস করেন, যেখানে মে মাসের দ্বিতীয় রবিবারকে সরকারিভাবে ‘মা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ধীরে ধীরে এই ধারণাটি সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে এবং মায়েদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর একটি সার্বজনীন দিনে পরিণত হয়।
মা দিবস কেবল একটি নির্দিষ্ট তারিখ নয়, বরং এটি মায়ের আত্মত্যাগ ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসাকে মনে করিয়ে দেওয়ার একটি সুযোগ। যদিও মায়ের প্রতি ভালোবাসা কোনো নির্দিষ্ট দিনে সীমাবদ্ধ হওয়া উচিত নয়, তবুও এই বিশেষ দিনটি আমাদের ব্যস্ত জীবনের মাঝে একবার দাঁড়িয়ে মাকে প্রাণভরে ‘ধন্যবাদ’ বলার সুযোগ করে দেয়। জেবিডি আইটি পরিবারের পক্ষ থেকে পৃথিবীর সব মায়েদের প্রতি রইলো বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।